সিঅ্যান্ডএফ ফেডারেশন

রাজস্ব নীতি পুনর্গঠনে অংশীজনের মত নেয়ার দাবি

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে ‘রাজস্ব নীতি’ ও ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে ‘রাজস্ব নীতি’ ও ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞ অংশীজনদের মতামত গ্রহণ না করলে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (সিঅ্যান্ডএফ ফেডারেশন)।

অর্থ উপদেষ্টার কাছে গত রোববার পাঠানো এক চিঠিতে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, দেশের আমদানি বাণিজ্য ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিসিএস (কাস্টমস ও এক্সাইজ) এবং বিসিএস (কর) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মতামত ও অংশগ্রহণ ছাড়া রাজস্ব নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া সফল হবে না।

চিঠিতে আরো বলা হয়, রাজস্ব নীতি প্রণয়নে সরাসরি রাজস্ব আহরণে নিয়োজিত, ন্যূনতম ২০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব পদে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় দীর্ঘদিনের অর্জিত বাস্তব অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও বিশেষায়িত জ্ঞানের যথাযথ ব্যবহার হবে না।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা আলাদা করার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রশাসনিক দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো। তবে ফেডারেশনের আশঙ্কা, এ বিভাজনের ফলে মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও নীতির মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি হতে পারে।

ফেডারেশনের মহাসচিব এসএম সাইফুল আলম বলেন, ‘আমরা সংস্কারের বিপক্ষে নই। কিন্তু নীতি প্রণয়নে যারা বছরের পর বছর মাঠে থেকে শুল্ক মূল্যায়ন, ভ্যাট, আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়ায় কাজ করেছেন, তাদের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব না দিলে এ উদ্যোগ পুরো ব্যবস্থাকে দুর্বল করে ফেলবে।’

সিঅ্যান্ডএফ ফেডারেশন জানায়, ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ইনডিরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমস, পাকিস্তানের ফেডারেল বোর্ড অব রেভিনিউ এবং শ্রীলংকার ইনল্যান্ড রেভিনিউ বিভাগের মতো পরিকাঠামো বিশ্লেষণ করে বিদ্যমান এনবিআরের অধীনেই ‘রাজস্ব নীতি’ ও ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ শিরোনামে দুটি উইং গঠন করে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার আনা সম্ভব।

চিঠিতে প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ ভেটিং ও চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠন, নীতিনির্ধারক ও মাঠ প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি পর্যালোচনামূলক সভা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শেষাংশে বলা হয়েছে, ‘অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাস্তবতায় যেকোনো নীতি সংস্কার যেন কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ার পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়।’

আরও